
নিরাপদ অভিবাসন ও প্রত্যাবর্তনকারী প্রবাসীদের পুনর্বাসনে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান
ছাতকের সংবাদ ডেক্স :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় প্রবাস বন্ধু ফোরাম ছাতক উপজেলা কমিটির ত্রি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলার গোবিন্দগঞ্জস্থ ব্র্যাক অফিসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা, অবৈধ ও অনিয়মিত পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ, বিদেশফেরত অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণ এবং অভিবাসন বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বরোপ করা হয়।
প্রবাস বন্ধু ফোরাম ছাতক উপজেলা কমিটির সভাপতি, সাংবাদিক ও ইউপি সদস্য অজিত কুমার দাশের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন ব্র্যাকের অর্গানাইজার সাজেদা বেগম। এতে বিশেষ অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সুনামগঞ্জ জেলার কো-অর্ডিনেটর মো নজরুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা এবং বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। দালাল বা অনুমোদিত ব্যক্তির প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ গেলে প্রতারণা, মানবপাচার, ঋণের বোঝা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সম্ভাব্য অভিবাসীদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের প্রবাস বন্ধু ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের কার্যক্রম
সভায় "ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের (প্রত্যাশা-২)" প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের বাস্তবায়ন ও সহ-অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের টেকসইভাবে পুনঃরেকত্রীকরণ এবং নিরাপদ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা। প্রকল্পটি অভিবাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেয়।
প্রত্যাশা-২-এর আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, ব্যক্তিভিত্তিক পুনঃএকত্রীকরণ পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক ও উপকরণ সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সেবায় রেফারেল দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার কাজও পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো প্রবাস বন্ধু ফোরাম। স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত এসব ফোরামের সদস্যরা সম্ভাব্য ও প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবায় রেফার করতে ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে অভিবাসন বিষয়ে একটি সহায়ক সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের শুধু আর্থিক সহায়তা নয়—তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক মর্যাদা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করা হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে শুধু একজন অভিবাসীকে তথ্য দিলেই হবে না; পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রবাস বন্ধু ফোরাম সেই কাজটি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
সভায় উপস্থিত সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং ছাতক উপজেলার সম্ভাব্য ও প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাস বন্ধু ফোরাম ছাতক উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. মুশাহিদ আলী, কার্যকরী কমিটির সদস্য মাস্টার আজিজুর রহমান, ইউপি সদস্যা পূর্ণিমা রানী দাশ, হাবিবা বেগম, সীমা রানী দাস, সাংবাদিক ফজল উদ্দিন, সাজ্জাদুজ্জামান, জুয়েল মেম্বার, বেলাল হুসেন, আবু সুফিয়ান, সোনারা বেগমসহ ফোরামের অন্যান্য সদস্যরা।
সভা শেষে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের বার্তা ছাতক উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রবাস বন্ধু ফোরামের কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।