
ছাতকের সংবাদ ডেক্স:
সুনামগঞ্জের ছাতকের জাউয়া বাজার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বহিষ্কারের আবেদনের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, আসন্ন জাউয়া বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি এবং এলাকায় তাঁর গণসংযোগ ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দলের একটি অংশ তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপি কামাল উদ্দিন বলেন, ২০০৯ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ সময় ধরে কলিম উদ্দিন মিলনের নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে কলিম উদ্দিন মিলনকে সঙ্গে নিয়ে আকিল কমিউনিটি সেন্টারে বড় পরিসরে ইফতার মাহফিল আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কামাল উদ্দিনের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলের প্রতি তাঁর ভূমিকার মূল্যায়ন হিসেবে কলিম উদ্দিন মিলন তাঁকে জাউয়া বাজার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তিনি কাজ করে আসছেন।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নিজ কেন্দ্রসহ জাউয়া বাজার ইউনিয়নে কলিম উদ্দিন মিলন বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এই গণসংযোগই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন কামাল উদ্দিন।
আমার জনপ্রিয়তা ও আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে দলের কিছু নেতাকর্মী এবং সম্ভাব্য কিছু প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
বহিষ্কারের আবেদনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও নেতাকর্মীর সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের ছবি বা যোগাযোগকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব তথ্যের ব্যাখ্যা না নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমি বিএনপির রাজনীতি করি, বিএনপির আদর্শ বুকে লালন করি।
আওয়ামীলীগের কোন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে আমার ছবি দেখাতে পারবেনা।
সামাজিক জীব হিসেবে আওয়ামীলীগের অনেকের সাথে সামাজিক অনুষ্ঠানে ছবি থাকতে পারে।
সমাজে আমরা মিলেমিশে বাস করি।
তাঁর বিরুদ্ধে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন কামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, আমি কাউকে গালাগাল বা হত্যার হুমকি দিইনি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
এদিকে কামাল উদ্দিনের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, তাঁর কথোপকথনের কিছু অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত বা কারসাজি করে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব বিকৃত তথ্য ব্যবহার করে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কামাল উদ্দিন বলেন, মিথ্যা, অপপ্রচার কিংবা ষড়যন্ত্র করে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনের রাজনীতি বন্ধ করা যাবে না। আমি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছি। দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে দলের সমর্থন থেকে বঞ্চিত করা কিংবা নির্বাচন থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবেন। তবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে কামাল উদ্দিন বলেন, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না।
আমি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাব।