

ছাতকের সংবাদ ডেক্স :
সুনামগঞ্জের ছাতকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের দেবেরগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে দেবেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রামের পঞ্চায়েতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেবেরগাঁও গ্রামের আবিদ আলীর ছেলে আসমত আলী ও আজাদ মিয়ার ছেলে কাউসারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উপস্থিত মুরব্বিরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন।
তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার সকালে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
খবর পেয়ে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মিরাজ আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহতদের মধ্যে আবর আলী (৬০), সালমান আহমদ (২৩), আফসান আহমদ (২৩), নাঈম আহমদ (১৮), খালেদ আহমদ (২৪), জুমেন মিয়া (১৬), ছালিক মিয়া (২২), সুমন আহমদ (২৩), হাবিবুর রহমান (৩৪), লিটন মিয়া (৩০), আবদাল হোসেন (১৮), তোফায়েল আহমদ (১৮), জুবেদ মিয়া (২২), মুসলিম উদ্দিন (৩৮), ফেরদৌস আহমদ (২৭), পারভীন বেগম (৫০) ও শিরিনা বেগম (৩১) রয়েছেন।
এ ছাড়া গুরুতর আহত মাসুম আহমদ (২২), জুবায়ের আহমদ (২০), রুয়েল আহমদ (২৫) ও আসমত আলী (২৪)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতদের কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, “বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি।”
জাউয়াবাজার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও দেবেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. আঙ্গুর মিয়া বলেন, “সংঘর্ষের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আপোষে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।”
এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply