

ছাতকের সংবাদ ডেস্ক নিউজ:
দিনের আলোয় ব্যস্ত সড়ক। অথচ সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। চারপাশে নেমে আসে অন্ধকার, আর সেই অন্ধকারেই বাড়ছে আতঙ্ক। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা ব্রিজের মুখে বাঁশখালা গ্রামের কাছে এবার একটি স্বাদ কোম্পানির অটোরিকশা থামিয়ে চালক ও ডিএসআরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশাটি সুরমা ব্রিজের মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় একদল ছিনতাইকারী গতিরোধ করে। পরে চালক ও কোম্পানির ডিএসআরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশের ফসলি জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা, একটি আইফোন, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি বাটন ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।
ঘটনার পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুরমা ব্রিজের সড়কবাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল। সন্ধ্যার পর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বড় একটি অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়। আর এই অন্ধকারই অপরাধীদের জন্য হয়ে উঠেছে সুযোগের জায়গা।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও এ এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও সড়কবাতি সচল কিংবা নিরাপত্তা জোরদারে দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী বলছেন, সন্ধ্যার পর সুরমা ব্রিজ এলাকা দিয়ে চলাচল করা এখন অনেকের কাছেই আতঙ্কের বিষয়। বিশেষ করে অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকরা ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সড়কবাতি থাকলে হয়তো অপরাধীরা এতটা সুযোগ পেত না। রাত হলেই পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ছিনতাইয়ের ঘটনার পর নয়, স্থায়ীভাবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই সুরমা ব্রিজের সড়কবাতিগুলো সচল করতে হবে। পাশাপাশি রাতের বেলায় পুলিশের টহল বাড়ানো এবং ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন অন্ধকারে পড়ে থাকা শুধু জনদুর্ভোগ নয়, অপরাধীদের জন্যও বাড়তি সুযোগ তৈরি করে। তাই বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে দেখার এখনই সময়।
Leave a Reply