1. admin@chhatakersangbad.com : Admin_adajit :
শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা - দৈনিক ছাতকের সংবাদ
শিরোনাম :
সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান এবং পুশইন প্রতিরোধে পৃথক দুটি জনসচেতনতামূলক সভা শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা ছাতকের ভাতগাঁওয়ে চিশতীয়া সমাজকল্যাণ পরিষদকে মন্ত্রণালয়ের অনুদান। সুনামগঞ্জ জেলা মহালয়া মহোৎসব উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার এবি এম জাকির হোসেনকে ক্রেষ্ট প্রদান ছাতকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানো হয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন ছাতক উপজেলা দ্বি বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব সম্পন্ন সুনামগঞ্জের এরালিয়া গ্রামে এক বৃদ্ধ কে কুপিয়ে আহত করে ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই ব্ল্যাকস্টোন চ্যারিটি ইউকে ও মুসলিম চ্যারিটি নেটওয়ার্ক ইউকের প্রতিনিধি দল বাইসাইকেল যোগে ছাতকের জাউয়াবাজার সুনামগঞ্জ জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি সুহেল সম্পাদক নজরুল ইসলাম

শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা

  • Update Time : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ বার দেখা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একই পরিবারে তিন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন কাঠমিস্ত্রী স্বাধীন সূত্রধর। তার এক হাতে সংসারের বোঝা, অন্য হাতে তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের । অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন প্রতিবন্ধীদের বাবা স্বাধীন সূত্রধর। সেই সামান্য আয় দিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে চলে তার পাঁচ সদস্যের সংসার। সংসারে এত অভাব অনটন থাকার পরও তাদের মা শ্রীমতি সূত্রধরের তিন সন্তানের দেখাশোনা করতে গিয়ে ঘরের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই তার। তিন সন্তানের দেখাশোনা,চিকিৎসা, পরিচর্যা ও দৈনন্দিন ঘরের প্রয়োজন কাজ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রীমতি সূত্রধরকে। এর মধ্যে দুই সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সৃষ্টি সূত্রধর এখনো ভাতা পাচ্ছে না। তবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। আপাতত তিনটি হুইলচেয়ার দেওয়া এবং সৃষ্টির ভাতা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ।

ঘটনাটি হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামে।

পিতা স্বাধীন সূত্রধরের তিন প্রতিবন্ধী সন্তান হচ্ছেন সনজীব সূত্রধর (১৮), সৃষ্টি সূত্রধর (১৫) ও সমাপ্ত সূত্রধর (১২)। তারা তিনজনই জন্মসূএে প্রতিবন্ধী।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিটি হচ্ছেন স্বাধীন সূত্রধর। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী হওয়ায় প্রতিদিন পরিবারের ৫ জন সদস্যর দুবেলা দুমুঠো খাবারের আশায় অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে হয়। প্রতিদিন তার হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের যৎসামান্য যে টাকা আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে ৫ জনের পরিবারে টানাপোড়নের সংসার। কথায় আছে না যার নুন আনতে পানতা পুড়ায়,এরমধ্য আবার তিন সন্তানের চিকিৎসা ঔষধপএ তো আছেই।

সন্তানদের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রী শ্রীমতী সূত্রধরের পক্ষে বাইরে গিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে সংসারের খরচ ও সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিনই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী তিন সন্তানের পিতা স্বাধীন সূত্রধর কান্নাজড়িত কন্ঠে সংবাদকর্মীদের জানান, আমার পরিবারে তিনটি সন্তান তাও প্রতিবন্ধী,তাদের ভরণপোষন আর অভাব অনটন আর টানাপোড়নের সংসারে আমার একার পক্ষে চলাই যেন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে।তিনি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আক্ষেপ করে আরো বলেন,আমার বড় ছেলেটি অন্তত সুস্থ থাকলে হয়তো এই বয়সে সংসারের হাল ধরতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন তিন সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়াতে সংসার ও পরিবার পরিজনদের ভরণপোষন মিঠাতে আমার বিরামহীন ভাবে ছুটে চলা কর্মের সন্ধানে।

তিনি বলেন মানুষের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা যে পাই সেই টাকায় বর্তমান বাস্তবতায় সংসার চালানো খুবই কষ্টকর।
আমার সন্তানদের দেখাশোনা করেন আমার স্ত্রী। এদের রেখে আমার স্ত্রী কোনো কাজ ও করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমার বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়, কিন্তু মেঝো মেয়েটা এখনো সরকারী ভাতা পায়নি। সরকারের সব পর্যায়ের সুযোগ সুবিধা পেলে খেয়ে পড়ে বাঁচার স্বপ্নঁ দেখেন কাঠমিস্ত্রী স্বাধীন সূত্রধর।

এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী তিন সন্তানের মা শ্রীমতী সূত্রধর বলেন, আমার সারাদিন যায় এদের দেখাশোনা করায়। এদের বাথরুমে আনা নেয়া,গোসন করানো থেকে শুরু খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি সারাদিন চলে যায়।এদের রেখে বাইরে গিয়ে সংসারের জন্য কোনো কাজ করতে পারি না। তিনি সরকারের কাছে তার তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুনীল চন্দ্র দাস জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতিমধ্য সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পরিবারের দুই সন্তানকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং অপর সন্তান সৃষ্টির জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে এমন কিছু দেওয়ার মতো সুযোগ সুবিধা নেই। তবে সমাজসেবা থেকে ভাতা পেতে পারে। তারপরও আমরা দেখব, কিছু করা যায় কিনা।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস বলেন, আপাতত তিনটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্হা করার আশ্বাস দিয়ে বলেন সরকারের এই সমাজ সেবা মন্ত্রনালয় সমাজের এমন অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষজনের কল্যাণে কাজ করে থাকে। আমাদের এই সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে শাল্লায় একটি পরিবারে তিনটি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সবধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

Share this news as a Photo Card

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025
Customized BY NewsTheme
24 October 2026

শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা

https://chhatakersangbad.com/