

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার ৩০টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নিনিরাপত্তা, আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েনসহ দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতারা অংশ নেন।
বক্তব্য দেন ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মির্জ কে ই তুহিন, ছাতক পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নাছিমা বেগম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, ফারুক আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন সুমেন, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি হরিদাস রায়, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনি শংকর ভৌমিক, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রবীন্দ্র কুমার দাস, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শংকর কুমার দাস, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল রায়, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ অধিকারী ও সাধারণ সম্পাদক দুলন তরফদার।
এছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে মহদী পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক প্রণব শুক্ল বৈদ্য, সিংচাপইড় মণ্ডপের সভাপতি সুমন সূত্রধর, গোবিন্দগঞ্জ পূজামণ্ডপের রবীন্দ্র চন্দ, বাউশা পূজামণ্ডপের সভাপতি রঞ্জন কুমার দাস, কাশিপুর পূজামণ্ডপের রাদেশ পাল, মহাপ্রভুর আখড়া মণ্ডপের সভাপতি গণেশ পোদ্দার, তাতিকোনা মণ্ডপের সভাপতি নুপুর দাস এবং মনিপুরী পূজামণ্ডপের ব্রজেন্দ্র সিংহসহ বিভিন্ন মণ্ডপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ আলম, মেডিকেল অফিসার ডা. তৌফিক শাওন, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রণব লাল দাস, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অনুকূল চন্দ্র দাস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা দীলিপ চন্দ্র দাস, ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক, ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, ক্ষুদ্র কৃষক ঋণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিপ্লব দে, মনজিত ঘোষ, নারায়ণ দাস নারদ, নারায়ণ চন্দ, বিরেন্দ্র বৈদ্য, অশেষ পাল, দীপক দেবনাথ,লনি দেবনাথ, অঞ্জন দত্ত ঝলক, রতন দে, রনজিত ঘোষ, অনুকুল নাথ, প্রদীপ দেবনাথ, রসময় চন্দ, অজয় রায়, অমরেশ সরকার, সৌরব দাস, মানিক আচার্য্য, গোবিন্দ দাস, রাজীব চন্দ্র দাস, মিন্টু বৈদ্য, সমর দাস, দীলিপ সূত্রধর, প্রভাস কুমার শর্ম্মা, পুলক দত্ত ও সুভাষ রঞ্জন দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ছাতক উপজেলায় মোট ৩০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ছাতক পৌরসভা এলাকায় রয়েছে ১২টি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রয়েছে ১৮টি পূজামণ্ডপ।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমা শিল্পীরা দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে। মাটির কাঠামো থেকে শুরু করে রং ও অলংকরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে প্রতিমাগুলো।
প্রস্তুতিমূলক সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন বলেন, “ছাতকের ৩০টি পূজামণ্ডপে যাতে নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতায় ছাতকে এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী।
Leave a Reply